মালাধর বসু

- সাধারণ জ্ঞান - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী | NCTB BOOK
1.2k

মালাধর বসু বা গুণরাজ খাঁ হলেন একজন মধ্যযুগীয় বাঙালি কবি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন কবি। তিনি প্রথম বাংলা ভাষায় ভাগবত পুরাণ বা ভাগবত অনুবাদ করেন। তার অনূদিত কাব্যটির নাম শ্রীকৃষ্ণবিজয়, যা তিনি ১৪৭৩ সাল থেকে ১৪৮০ সালের মধ্যে রচনা করেন। মালাধর বসুই ভাগবতের প্রথম অনুবাদক। তার আগে বাংলা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় ভাগবত অনূদিত হয়নি।

ভাগবত ১২ খণ্ডে রচিত এবং এর শ্লোকসংখ্যা ৬২০০০। হিন্দুধর্মের এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন মালাধর বসু। এজন্য তিনি বাদশাহ রুকনউদ্দিন বরবক শাহের কাছ থেকে ‘গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন। তাঁর ভাগবতের নাম ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’।

সংস্কৃত ভাষায় রচিত ভাগবত বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের নিকট পরম পবিত্র গ্রন্থ। এটি পুরাণ নামক সংস্কৃত সাহিত্যের অন্তর্গত। পুরাণের পাঁচটি লক্ষণ - সর্গ, প্রতিসর্গ, বংশ, মন্বন্তর ও বংশানুচরিত অর্থাৎ সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রলয়ের পরবর্তী সৃষ্টিকাহিনী, দেবগণের জন্মবৃত্তান্ত, মনুর অধিকারকাল হিসাবে যুগবিভাগ, রাজাদের বংশকাহিনী ও কার্যকলাপ - কমবেশি ভাগবতে স্থান পেয়েছে। কৃষ্ণের জন্ম, বাল্য, কৈশোর ও যৌবনের ঐশ্বরিক কার্যকলাপ এবং দেহত্যাগের কথা এই গ্রন্থে বর্ণিত । ভগবান বিষ্ণু কৃষ্ণরূপে জন্মগ্রহণ করে যে অদ্ভুত কাজগুলো অনায়াসে সম্পন্ন করেছেন সেগুলো কাব্যরূপে ও পাণ্ডিত্যে সমৃদ্ধ হয়ে ভাগবতে পরিবেশিত হয়েছে।

বেদের মন্ত্রসমূহ বিন্যাস করে যিনি বেদব্যাস আখ্যা পেয়েছেন তিনি অতি প্রাচীন ঋষি এবং হিন্দুসমাজের সর্বাপেক্ষা মাননীয় পণ্ডিত। তাই মহাভারত এবং পুরাণসমূহ ও ভাগবতের রচয়িতারূপে ব্যাসকে নির্দিষ্ট করে গ্রন্থগুলোর পবিত্রতা ও গুরুত্ব বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এত বিপুল বৃহৎ কলেবরে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা একজনের পক্ষে রচনা অসম্ভব বলেই যুক্তিসংগত। এজন্য সংস্কৃত ভাগবতের বা ধর্মীয় গ্রন্থ প্রণেতাদের যথার্থ নাম ও কাল চিরদিনের জন্য অজ্ঞাত থেকে গিয়েছে।

মালাধর বসুর পিতার নাম ভগীরথ এবং মাতার নাম ইন্দুমতী। তাঁর জন্ম কায়স্থ বংশে এবং বসতি ছিল বর্ধমান জেলার জামালপুর থানার মেমারী রেলস্টেশনের অনতিদূরে কুলীন গ্রামে। তাঁর একজন পুত্রের উপাধি ছিল ‘সত্যরাজ খান'।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...